স্ট্রোক কি? স্ট্রোকের লক্ষন ও উপস্বর্গসমূহ | স্ট্রোক প্রতিরোধে যা যা করণীয়

10
স্ট্রোক কি ? স্ট্রোকের লক্ষন ও উপস্বর্গসমূহ | স্ট্রোক প্রতিরোধে যা যা করণীয় | Strokes Treatments
স্ট্রোক কি?
স্ট্রোক কি ? স্ট্রোকের লক্ষন ও উপস্বর্গসমূহ | স্ট্রোক প্রতিরোধে যা যা করণীয় | Strokes Treatments

মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত প্রবাহের পরিবর্তনে যে অবস্থার তৈরি হয় তাকে স্ট্রোক বলে ।সাধারনত রক্ত প্রবাহের ব্যাঘাত ঘটলে ( অক্সিজেন ও শর্করা এর পরিমান হ্রাস পায় ) অথবা উচ্চ রক্ত চাপে রক্ত নালী ছিড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাধার ফলে মস্তিষ্ক চাপে থাকে এবং তার স্বাভাবিক সক্ষমতা হারায়। এর ফলে মুখ বেকে যাওয়া ,হাত-পা নড়াচড়া করতে না পাড়া,কথা বলতে না পাড়া বা কষ্ট হওয়া ,অজ্ঞান হয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন লক্ষন ও উপস্বর্গ দেখা যায় । এই অবস্থাকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্রোক বলে ।

 

কেন স্ট্রোক হয়
হাই প্রেশার, সুগার-সহ নানা রিস্ক ফ্যাক্টর মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর পথ আটকে দেয়। এদিকে রক্তের মধ্যে ভেসে বেড়ানো চর্বির ডেলা আচমকা ধমনীতে আটকে গিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেনের অভাবে নিস্তেজ হতে হতে অকেজো হয়ে যায়। এই ব্যাপারটাই স্ট্রোক। সাধারণত, দু’ধরনের স্ট্রোক হয়। ইসকিমিক আর হেমারেজিক। ইসকিমিক স্ট্রোকে রক্ত চলাচল থেমে যায়। আর হেমারেজিক স্ট্রোকে দুর্বল রক্তনালী ছিঁড়ে গিয়ে রক্তপাত হয়। এ ছাড়া আছে ট্র্যান্সিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক বা টিআইএ। কোনও ছোট রক্তের ডেলা মস্তিষ্কের রক্তবাহি ধমনীতে সাময়িক ভাবে আটকে গেলে কিছুক্ষণের জন্য রোগীর ব্ল্যাক আউট হবার ঝুঁকি থাকে। আপাত দৃষ্টিতে মারাত্মক না হলেও টিআইএ-র পরে বড় অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে।

 

স্ট্রোক হলে বুঝবেন কীভাবেঃ
যদি কথা বলতে বলতে আচমকা জিভ অসাড় হয়ে যায় অথবা অল্প সময়ের জন্যে চোখে অন্ধকার দেখেন অর্থাৎ ব্ল্যাক আউট হয়। কাজ করতে করতে হাত-পা বা শরীরের কোনও একদিক হঠাৎপক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়, অথবা চোখে দেখতে সমস্যা হয়।ঝাপছা দৃষ্টি বা ডাবল ভিশন হয়। কথা বলতে অসুবিধে হয় অথবা ঢোক গেলা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়।মুখ থেকে লালা বেরতে থাকে অথবা সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায় রোগী।

স্ট্রোক কি ? স্ট্রোকের লক্ষন ও উপস্বর্গসমূহ | স্ট্রোক প্রতিরোধে যা যা করণীয় | Strokes Treatments
স্ট্রোকের ধরন
সাধারনত স্ট্রোককে আমরা দুই ভাবে ভাগ করতে পারি
১) মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা (Ischemic stroke)
২) মস্তিস্কের রক্ত নালী ছিড়ে যাওয়া বা (Hemorrhagic stroke)

এ ছাড়াও আরো এক প্রকার স্ট্রোক আছে যা ছোট স্ট্রোক বা TIA নামে পরিচিত

 

স্ট্রোকের লক্ষন ও উপস্বর্গ:
১)মুখ বাকা হয়ে যাওয়া
২) হাত অথবা/এবং পা এর দূর্বলতা বা অবশতা
৩)কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা অস্পস্ট কথা
উপরের তিনটি লক্ষন একসাথে দেখামাত্রই বুঝবেন রোগী স্ট্রোক করেছে,তাই সাথে সাথে নিউরোলোজী বিভাগ আছে এমন হাসপাতালে নেওয়া উত্তম ।বিশেষ করে HDU ইউনিট বা সাপোর্ট আছে এমন কোথাও নেওয়া ভালো ।তবে দ্রুত সময়ে এমন ব্যাবস্থা করতে না পাড়লে নিকটস্থ হাসপাতালে নিবেন ।
স্ট্রোক কি ? স্ট্রোকের লক্ষন ও উপস্বর্গসমূহ | স্ট্রোক প্রতিরোধে যা যা করণীয় | Strokes Treatments
উপরোক্ত উপস্বর্গ ছাড়া ও নিচের লক্ষন ও উপস্বর্গ দেখা দিতে পারে
৪) মাথা ব্যাথ্যা করা
৫) চোখে কম দেখা বা ঝাপসা ঝাপসা দেখা
৬) শরীরে ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারা
স্ট্রোকের কারনসমূহ
১) উচ্চ রক্তচাপ
২) রক্তে অতাধিক চর্বি বা কোলেস্টেরোল
৩) ডায়াবেটিস
৪)ধুমপান
৫) স্থুলতা বা শরীরের অতিরিক্ত উজন
৬) মদ্যপান
৭) পরিবারের অন্য কারো স্ট্রোক করার ইতিহাস থাকলে
৮ )অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা করা
৯) ঘুম কম হওয়া
১০) শারীরিক পরিশ্রম কম করা বা ব্যায়াম না করা

স্ট্রোক হওয়ার পর করণীয়
শরীরের কোনো একদিকে দুর্বলতাবোধ করা বা শরীরের কোনো একদিক নাড়াতে না পারা, হাত-পায়ে অবশ ভাব, মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া, প্রচ- মাথাব্যথা হওয়া, কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া, বমি হওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, মুখের অসাড়তা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, বেসামাল হাঁটাচলা, হঠাৎ খিঁচুনি বা ধপ করে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হলে বুঝতে হবে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন হলে রোগীকে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে। এ অবস্থায় কোনো খাবার বা ওষুধ মুখে দেয়া যাবে না। কারণ এগুলো শ্বাসনালিতে ঢুকে আরও ক্ষতি করতে পারে। বরং মুখে জমে থাকা লালা, বমি পরিষ্কার করে দিতে হবে। টাইট জামা-কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে। হাসপাতালে যাওয়ার সময় খেয়াল করে রোগীর আগের চিকিৎসার ফাইল সঙ্গে নিতে হবে।

স্ট্রোক কি ? স্ট্রোকের লক্ষন ও উপস্বর্গসমূহ | স্ট্রোক প্রতিরোধে যা যা করণীয় | Strokes Treatmentsস্ট্রোকের পর করণীয়
অতি দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সাধারণত স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ইমার্জেন্সি ব্রেইনের রেডিওলজিক টেস্ট, সিটিস্ক্যান, এমআরআই করা উচিত। ঘাড়ের রক্তনালির ডপলার, হার্টের সমস্যার জন্য ইকো পরীক্ষা করা উচিত। রক্ত জমাটবাঁধার প্রবণতা পরীক্ষা করে নিতে হবে। প্রয়োজনে এনজিওগ্রাম ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষাও করতে হবে।

 

চিকিৎসা করাতে হবে দ্রুত
স্ট্রোক হলে আক্রান্ত এলাকার মস্তিষ্ক কোষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রক্ত সরবরাহ ২ থেকে ৫ মিনিটের বেশি বন্ধ থাকলে স্নায়ুকোষ স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়।

 

স্ট্রোকের চিকিৎসা
যেহেতু স্ট্রোক ব্রেইনের রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার জন্য হয় এবং ব্রেইন কম রক্তপ্রবাহ নিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারে না, সেহেতু স্ট্রোকের চিকিৎসা তাৎক্ষণিকভাবে শুরু করতে ওষুধ প্রয়োগ করে রক্তের চাপ, রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। রক্তের জমাটবাঁধা অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করতে হবে। প্রাথমিক ধাপ কাটিয়ে ওঠার পর বহুদিন পর্যন্ত ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। স্ট্রোক হয়েছে বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

স্ট্রোক কি ? স্ট্রোকের লক্ষন ও উপস্বর্গসমূহ | স্ট্রোক প্রতিরোধে যা যা করণীয় | Strokes Treatments
স্ট্রোক প্রতিরোধে যা করণীয়
  • ব্লাড প্রেশার কন্ট্রোলে রাখবেন।
  • নিয়মিত হাঁটাচলা করবেন।
  • সাদা ভাত, সাদা চিনি, সাদা লবণ খাওয়ার অভ্যাস একেবারে বাদ দিতে হবে।
  • সিগারেটের ধোয়া থেকে দূরে থাকবেন।
  • ডায়াবেটিস বা অন্য কোন রোগ থাকলে কন্ট্রোলে রাখবেন।
  • নিয়মিতভাবে কোলেস্ট্রেরল লেভেল চেক করাবেন।
  • তীব্র মাথাব্যথা বা হটাৎ করে চোখে ঝাপসা দেখলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাবেন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here