ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা বোঝার প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী? ডায়াবেটিস কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?

31
ডায়াবেটিস কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?, ডায়াবেটিস কেন হয়, ডায়াবেটিস হয়েছে বোঝার প্রাথমিক লক্ষণ কী কী? , How to control diabetes? , Why is diabetes, what are the initial symptoms of understanding diabetes?

 

 

ডায়াবেটিসের উপসর্গ চেনা ও ধারনা থাকা খুব অপরিহার্য। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পরলে, যেকোনো ধরনের গুরুতর জটিল অব্স্থা প্রতিহ্ত করা যেতে পারে, দ্বিতীয় প্রকার ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে।সাধারণত মাস বা এমনকি বছর ধরে এটি প্রাক ডায়াবেটিস থেকে হতেও পারে। উপসর্গ গুলি খুব ধীরে ধীরে দেখা যেতে পারে, যা চিহ্নিত করনে বেশী সমস্যা সৃষ্টি করে দ্বিতীয় প্রকার ডায়াবেট। মানুষের প্রায়ই প্রথমে কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না, এমন কি তাদের বহু বছর ধরে উপসর্গ নাও দেখা যেতে পারে।

ডায়াবেটিস কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?, ডায়াবেটিস কেন হয়, ডায়াবেটিস হয়েছে বোঝার প্রাথমিক লক্ষণ কী কী? , How to control diabetes? , Why is diabetes, what are the initial symptoms of understanding diabetes?

ডায়াবেটিস কেন হয়?

আমরা যখন কোন খাবার খাই তখন আমাদের শরীর সেই খাদ্যের শর্করাকে ভেঙে চিনিতে (গ্লুকোজ) রুপান্তরিত করে। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামের যে হরমোন নিসৃত হয়, সেটা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে নির্দেশ দেয় চিনিকে গ্রহণ করার জন্যে। এই চিনি কাজ করে শরীরের জ্বালানী বা শক্তি হিসেবে।

শরীরে যখন ইনসুলিন তৈরি হতে না পারে অথবা এটা ঠিক মতো কাজ না করে তখনই ডায়াবেটিস হয়। এবং এর ফলে রক্তের মধ্যে চিনি জমা হতে শুরু করে।

 

ডায়াবেটিস এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল :

· যে কোনো ক্ষতের দীর্ঘ সময় ধরে নিরাময় বা ঘন ঘন সংক্রমণ হয় দ্বিতীয় প্রকার ডায়াবেটিস আরোগ্য এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য আপনার ক্ষমতা প্রভাবিত করতে পারে।

· আপনার শরীরের কোষগুলি শর্করা থেকে বঞ্চিত গুলি হলে আপনি ক্লান্ত এবং খিটখিটে হতে পারেন।

· অপর্যাপ্ত পরিমানে ইনসুলিন আপনার কোষগুলিতে গ্লুকোজ পরিবহন ব্যহত হয় যা আপনার পেশী এবং অন্যন্ন অঙ্গগুলি নিত্বেজ হয়ে পরে I ফলে খুব দ্রুত খিদে বৃদ্ধি পায়।

· শরীরের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত শর্করা উপস্থিতি কোষের স্থিত রক্তরস শুশে নেয়, যা আপনাকে তৃষ্ণার্ত করে তুলবে ফলত, আপনি অস্বাভাবিক ভাবে জল পান করবেন এবং মুত্র ত্যাগ করবেন।

ডায়াবেটিস কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?, ডায়াবেটিস কেন হয়, ডায়াবেটিস হয়েছে বোঝার প্রাথমিক লক্ষণ কী কী? , How to control diabetes? , Why is diabetes, what are the initial symptoms of understanding diabetes?

প্রথম লক্ষণগুলি হল:

* রক্তে শর্করার পরিমান মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে, চোখের লেন্সের ফ্লুইড শুকিয়ে যাবে এবং ফলত তা দৃষ্টিশক্তির উপরে প্রভাব ফেলতে পারে I

* যারা সাধারণত দ্বিতীয় প্রকার ডায়াবেটিস আক্রান্ত তাদের বগলের ও ঘাড় এবং শরীরের নরম সংযোগস্থলে গুলিতে কালো কালো ছোপ যাকে আমরা দেখতে পাওয় যায় I এই অবস্থাকে, অ্যাকান্থসিস নিগ্রীকানস(Acanthosis Nigricans ) বলা হয় যা ইনসুলিন প্রতিরোধের একটি লক্ষণ হতে পারে I

* ওজন কমে যাওয়া I অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের ফলে ওজন কমে যেতে পারে I গ্লুকোজ পরিপাক না হলে শরীর পেশী এবং চর্বি সঞ্চিত বিকল্প শক্তি ব্যবহার করে I ক্যালরি হিসাবে বাড়তি গ্লুকোজ প্রস্রাবের মধ্যে বেরিয়ে যায়।

উপরে উপসর্গ ছাড়াও, দ্বিতীয় প্রকার ডায়াবেটিস উপসর্গ শুকনো মুখ এবং পা ব্যথাও হতে পারে।

এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, তাদের অবস্থার সচেতন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে সঙ্গে দ্বিতীয় প্রকার ডায়াবেটিস বেঁচে থাকে। এই সব ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত ডাক্তার পরিক্ষার মাধ্যমে ধরা পরবে।

ডায়াবেটিস কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?, ডায়াবেটিস কেন হয়, ডায়াবেটিস হয়েছে বোঝার প্রাথমিক লক্ষণ কী কী? , How to control diabetes? , Why is diabetes, what are the initial symptoms of understanding diabetes?

সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. খুব তৃষ্ণা পাওয়া।
২. স্বাভাবিকের চাইতেও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। বিশেষ করে রাতের বেলায়।
৩. ক্লান্ত বোধ করা।
৪. কোন কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া।
৫. প্রদাহজনিত রোগে বারবার আক্রান্ত হওয়া।
৬. দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
৭. শরীরের কোথাও কেটে গেলে সেটা শুকাতে দেরি হওয়া।

চিকিৎসকরা বলছেন, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের লক্ষণ শৈশব থেকেই দেখা দিতে পারে এবং বয়স বাড়ার সাথে সেটা আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়ার পর থেকে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার লোকজনের মধ্যে এই ঝুঁকি তৈরি হয় তাদের ২৫ বছর বয়স হওয়ার পর থেকেই। যাদের পিতামাতা, ভাই বোনের ডায়াবেটিস আছে, অথবা যাদের অতিরিক্ত ওজন, দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশের মানুষ, আফ্রো-ক্যারিবিয়ান অথবা কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান তাদেরও এই ঝুঁকি বেশি থাকে।

ডায়াবেটিস কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?, ডায়াবেটিস কেন হয়, ডায়াবেটিস হয়েছে বোঝার প্রাথমিক লক্ষণ কী কী? , How to control diabetes? , Why is diabetes, what are the initial symptoms of understanding diabetes?

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়:

ডায়াবেটিস কোন রোগ নয় কিন্তু একে সব রোগের মা বলা হয়। ডায়াবেটিসকে যদি নিয়ন্ত্রণে না রাখা যায় তাহলে শরীরের ভাইটাল অঙ্গগুলোর নানা সমস্যা দেখা দেয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে বরং তেমন কোন সমস্যা ছাড়াই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন অতিবাহিত করা যায়।

ডায়াবেটিস সারা জীবনের রোগ। একে একেবারে নিরাময় করা যায় না তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। শুধু জীবনযাত্রা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে এ রোগটিকে অনেকাংশে সাফল্যের সঙ্গে প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ অথবা বিলম্বিত করা যায়। এজন্য কিছু করণীয় হতে পারে :

  • শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ হ্রাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, কায়িক পরিশ্রম এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এ রোগের আবির্ভাব ও ক্ষতিকারক প্রভাব কমিয়ে আনা।
  • ডায়াবেটিস বিষয়ে সঠিক শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জন করে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।
  • খাবারদাবারে নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • চিনি, মিষ্টিযুক্ত খাবার যেমন্তসফট ড্রিংকস, চকোলেট, কেক, পেস্ট্রি, কুকি ইত্যাদি, ক্যালরিবহুল খাবার যেমন্ততেল, ঘি, মাখন, ডালডা, চর্বি, ডিমের কুসুম, মগজ ইত্যাদি কম খেতে হবে।
  • শাকসবজি, ফলমূল ও আঁঁশজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে।
  • ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলতে হবে।
  • শকর্রাবহুল খাবারগুলো (চাল, আটা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি খাবার) কিছুটা হিসাব করে খেতে হবে।
  • দৈনিক ক্যালরি হিসাব করে খাবার খেতে হবে। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
  • ধুমপানসহ সব ধরনের তামাক বর্জন করতে হবে।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে দ্রুততায় হাঁটা উচিত। অন্য কোনো সমস্যা না হলে সাইকেল চালনা, সাঁতার কাটা কিংবা সিঁড়ি ভাঙা ভালো ব্যায়াম। মনে রাখা উচিত, রক্তের গ্লুকোজগুলোকে পোড়াতে হবে কায়িক পরিশ্রম বা কাজের মাধ্যমেই।
  • উচ্চতা অনুযায়ী ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে মেদভুঁড়ি যেন না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • অনেক ক্ষেত্রে বিষণ্নতা ডায়াবেটিস বাড়ায়, তাই মনকে প্রফুল্ল বা মানসিক চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  • শিশু-কিশোরদের মধ্যে আজকাল টাইপ-২ ডায়াবেটিস বেড়ে যাচ্ছে। তাই তারা যেন অপুষ্টিতে না ভোগে আবার অতি পুষ্টিতে ওজনও যেন না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • শিশুরা যেন শ্রমবিমুখ না হয়, তা দেখাও গুরুত্বপূর্ণ।
  • গর্ভকালীন মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে, যেন গর্ভস্থ শিশু অপুষ্টিতে না ভোগে।
  • আর ডায়াবেটিস হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে যথাযথ ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।

 

তথ্য সূত্র :
দৈনিক কালের কন্ঠ

6 COMMENTS

  1. Asole aita amn akta rog ja manush ke aste aste dhonso kore dey. tai ami mne kori aitar jonno sothik nirdeshona khubi beshi proyojon. Thank you so much for this information.

    • জ্বি ভাই, তবে কারো যদি এই লিখা পড়ে উপকারে আসে তাহলে ই আমার এই পরিশ্রম সার্থক।
      Thank you so much for your valuable feedback bro.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here