কোনো নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরন না করা:
দৈনন্দিন কাজের নির্দিষ্ট কোনো রুটিন না থাকার ফলে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে অযথা সময় কাটায়। ফলে একসময় হতাশায় ভুগি, যা আমাদের জীবনে উন্নতির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
অনেকের কাছে নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরন করা বিরক্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু একটি রুটিন ফলো করে কাজ করা আমাদের দক্ষতা বাড়ায়, একটি স্থিতিশীল মানসিক অবস্থা পেতে সাহায্য করে। এটি আমাদের মধ্যে ভালো অভ্যাস গঠন করতে সাহায্য করে।
মোবাইল ফোন আসক্তিঃ
অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহার, আমরা দৈনন্দিন জীবনে এতটাই মোবাইল ফোন আসক্ত হয়ে গিয়েছি যে যদি আমাদেরকে 7 দিন এন্ড্রয়েড মোবাইল থেকে দূরে থাকতে বলে আমরা হয়তো পাগল হয়ে যাবো। আমরা আমাদের একটা দিনের বিশাল একটা সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে নষ্ট করে। প্রোডাক্টিভ পথে আমরা আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারবো যদি আমরা আমাদের এই বদভ্যাসটি কমাতে পারি।
প্রসঙ্গ না বুজে অতিরিক্ত কথা বলাঃ
কোন বিষয় বুজার আগেই না ভেবেই হুট-হাট কথা বলে ফেলা। এইটার ভুক্তভোগী আমরা কমবেশি সবাই হয়ে থাকি। কোন কিছু বলার আগে যদি আমরা আমাদের মস্তিষ্ক টাকে একটু ব্যবহার করে কথা বলি তাহলে আরো গঠনমূলকভাবে আমরা আমাদের আলোচনা এবং কথাবার্তা কে পরিপূর্ণতায় এবং সৌন্দর্য বজায় রেখে কোন সমস্যা ছাড়াই সমাধানের পথ তৈরি করতে পারি।
সিগারেট খাওয়াঃ
পার্সোনালি আমার কাছে সিগারেট খাওয়া একটা বদ অভ্যাস এর মধ্যে পড়ে। কারন আমরা সমাজের কি তাকাই দেখব যে সমাজের বিরাট একটা অংশ এই বদ অভ্যাস এর সাথে যুক্ত। তারা নিজেরাও জানে নিজেদের ক্ষতি করছে কিন্তু তারপরও নিজেদের ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে যদি সবাই চিন্তা করে তাহলে আসলেই হয়তোবা এই বদ অভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
শারীরিক ব্যায়াম না করাঃ
আমরা বেশিরভাগ মানুষই এই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিই না।নিয়মিত ব্যায়াম না করলে আপনার শরীরের সামর্থ্য ও শক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এর ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আমাদের নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
প্রয়োজনীয় সুষম খাবার গ্রহন না করা:
শরীর সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় উপরকন হলো সুষম খাবার, যা আমাদের দেহের ইম্যিউন সিস্টেমকে মজুবত রাখে। এর অভাব হলে আমাদের শরীরের কর্মদক্ষতা কমে যায় এবং এর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোগও কমে যায়। তাই সুষম খাবার গ্রহনে আমাদের সচেতন হতে হবে।
পর্যাপ্ত না ঘুমানো:
শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সুস্থ রাখতে প্রত্যেক মানুষের একটি নির্দিষ্ট পরিমান ঘুমের দরকার। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিকস,স্ট্রোক, হতাশায় ভুগা এজাতীয় সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারপ।তাই আমাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ধরে রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমানো দরকার। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুমের দরকার।
সময় কাজ সময়ে না করাঃ
সবকিছু শেষ সময়ের জন্য রেখে দেওয়া। আমাদের অনেক কাজই আমার শেষ মুহূর্তের জন্য রেখে দেই ভাবি যে পরে করে নেব। কিন্তু এটা হয় না। যথাসময়ে সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে আসলেই যে আমরা উপকৃত হব এ ব্যাপারটা আমরা বুঝেও না বুঝার ভান করে বসে থাকি।
সবচেয়ে বড় বদ অভ্যাস এটা আমি মনে করি সময় নষ্ট করা। আমরা আমাদের দিনের 24 ঘন্টা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করি যেগুলা আসলেই আমাদের কোন কাজে আসে না। আমরা আমাদের প্রডাক্টিভিটি লেভেলে এতটাই কমিয়ে ফেলেছি যে দিনশেষে হাহাকার ছাড়া কিছুই জোটে না আমাদের ভাগ্যে। এই বদ অভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমি মনে করি একটা উপায় সবার জন্য ফলপ্রসূ হবে, উপায়টা হচ্ছে আমরা আমাদের একটা দিন পর্যবেক্ষণ করবো সঠিকভাবে এবং মনোযোগ দিয়ে। আমাদের শুধু দেখা লাগবে যে আমরা আমাদের একদিন এর সময়টুকুর কোথায় কতখানি ব্যবহার করি। এইভাবে এক সপ্তাহ আমরা সজ্ঞানে পর্যবেক্ষণ করি তাহলে আমরা উপলব্ধি করতে পারব আমরা আমাদের কতটুকু সময় অযথা নষ্ট করি। এরপর যদি এখান থেকে শিক্ষা পেয়ে থাকি এটা আমাদেরই কাজে আসবে।
আরো পড়ুনঃ কোন খারাপ অভ্যাসগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত, নতুবা পরবর্তীকালে আপনাকে অনেক পস্তাতে হবে?














