ঘর থেকে মশা তাড়ানোর সহজ মাধ্যম কী? ক্ষতিকর মশার কয়েল ছাড়াই কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়ানো যায়?

32
ঘর থেকে মশা তাড়ানোর সহজ মাধ্যম কী, ক্ষতিকর মশার কয়েল ছাড়াই কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়ানো যায়.

মশা। এক যন্ত্রণাদায়ক পতঙ্গের নাম। বিরক্তিকর উপদ্রবের পাশাপাশি তারা রোগজীবাণু সংক্রামণ করে। এই মশা অনেক সময় মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া রোগগুলির মধ্যে অন্যতম হল – ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, ফাইলেরিয়া, জিকা ভাইরাস ইত্যাদি। আজকাল দেখা যাচ্ছে বাজারে বিক্রিত বিভিন্ন ধরনের স্প্রে, কয়েল, ধুপ, লিকুইডেটার এদের কোনটাতেই সে অর্থে মশা তাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বরঞ্চ এর উল্টোটাই ঘটছে। এই সব সরঞ্জাম বেশী ব্যবহারের ফলে আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কাজেই প্রাকৃতিক কোন উপায় অবলম্বন করে মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা করাটা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে আজকের দিনে। ঘরোয়া কিছু সাধারন জিনিসের ব্যবহারে অনেক ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া গেছে। সেগুলি হল –

লেবু ও লবঙ্গের ব্যবহার:
লেবু খণ্ড করে কেটে ভেতরের অংশে অনেকগুলো লবঙ্গ গেঁথে দিন। লেবুর মধ্যে লবঙ্গের পুরোটা ঢুকাবেন শুধুমাত্র লবঙ্গের মাথার দিকের অংশ বাইরে থাকবে। এরপর লেবুর টুকরাগুলো একটি প্লেটে করে ঘরের কোণায় রেখে দিন। ব্যস, এতে বেশ কয়েকদিন মশার উপদ্রব থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে ঘরের মশা একেবারেই দূর হয়ে যাবে। আপনি চাইলে লেবুতে লবঙ্গ গেঁথে জানালার গ্রিলেও রাখতে পারেন। এতে করে মশা ঘরেই ঢুকবে না।

কর্পূরের ব্যবহার:
মশা কর্পূরের গন্ধ একেবারেই সহ্য করতে পারে না। যে কোন দশকর্মা ভান্ডারে (এখন পাড়ার মদিখানার দোকানেই পাওয়া যায়) গিয়ে কর্পূরের ট্যাবলেট কিনে নিতে হবে। একটি ৫০ গ্রামের কর্পূরের ট্যাবলেট একটি ছোট বাটিতে রেখে বাটিটি জল দিয়ে প্রথমে ভর্তীকরতে হবে। এরপর এটি ঘরের কোন একটি কোণে রেখে দিন। কিছুক্ষণ পরেই মশা পালাতে শুরু করবে।

 

রসুনের ব্যবহার:
কয়েকটি রসুনের কোয়া থেঁতলে পানিতে সেদ্ধ করতে হবে। ওই পানি সারা ঘরে স্প্রে করে দিলেই মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। রসুনের স্প্রে মশা তাড়াতে খুবই কার্যকারী প্রাকৃতিক একটি উপায়। প্রথমে ৫ ভাগ জলে ১ ভাগ রসুনের রস মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর মিশ্রণটি একটি বোতলে ভরে শরীরের যেসব স্থানে মশারা কামড়াতে পারে সেসব স্থানে স্প্রে করতে হবে।

 

নিমের তেলের ব্যবহার:
নিমের মশা তাড়ানোর বিশেষ একটি গুণ রয়েছে। নিমের তেল ত্বকের জন্যও খুব উপকরী। সমপরিমানে নিমের তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে দেখা যেতে পারে। এতে দুটি কাজ একসঙ্গে হবে, মশা ধারে কাছে ভিড়বে না আর সেই সঙ্গে ত্বকের অ্যালার্জি বা ইনফেকশন জনিত নানা ন সমস্যাও দূর হয়ে যাবে।

তেল ছাড়াও আর একভাবে নিমকে আমরা ব্যবহার করতে পারি। কয়লা অথবা কাঠ-কয়লার আগুনে নিমপাতা পোড়ালে যে ধোঁয়া হয় তা মশা তাড়ানোর জন্য খুবই কার্যকরী।

ধুনোর সঙ্গে নিশিন্দা ও নিমপাতার গুঁড়ো:
ধুনোর সঙ্গে নিম এবং নিশিন্দাপাতার গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিদিন ব্যবহার করলে মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।


চা পাতার ব্যবহার:

ব্যবহৃত চা-পাতা ফেলে না দিয়ে ভাল করে রোদে শুকিয়ে নিয়ে সেই চা-পাতা ধুনোর বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে। চা পাতা পোড়ানোর ধোঁয়ায় ঘরের সমস্ত মশা, মাছি পালিয়ে যাবে।

তুলসী গাছ:
তুলসি গাছ ওষুধি, এটি সবাই জানে। কিন্তু এ গাছ মশা নিধনে ব্যবহার করা যায়, সেটা অনেকেই জানে না। আপনি মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে থাকলে ঘরের টবে কয়েকটি তুলসী গাছ লাগিয়ে রাখুন, মশা পালাবে।

পুদিনার ব্যবহার:
ছোট গ্লাসে একটু পানি নিয়ে তাতে ৫ থেকে ৬ গাছি পুদিনা রেখে দিন খাবার টেবিলে। ৩ দিন অন্তর পানি বদলে দেবেন। জার্নাল অফ বায়োরিসোর্স টেকনোলোজির গবেষণা মতে তুলসির মতো পুদিনা পাতারও রয়েছে মশা দূরে রাখার ক্ষমতা। শুধু মশাই নয় পুদিনার গন্ধ অনেক ধরণের পোকামাকড়কে ঘর থেকে দূরে রাখে। পুদিনা পাতা ছেঁচে নিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিন। এই পানির ভাপ পুরো ঘরে ছড়িয়ে দিন। দেখবেন ঘরের সব মশা পালিয়েছে। চাইলে পুদিনার তেলও গায়ে মাখতে পারেন।

 

কেরোসিন তেলের ব্যবাহর:
কেরোসিন তেল প্রথমে একটি স্প্রে বোতলে নিতে হবে। এরপর তার মধ্যে কয়েক টুকরা কর্পূর মিশিয়ে নিতে হবে। এবার মিশ্রণটি ভালো করে ঝাঁকিয়ে ঘরেন চারদিকে স্প্রে করলে ঘের আর মশা থাকবে না।

সুগন্ধি ব্যবহার:
সুগন্ধি ব্যবহার করুন, মশারা সুগন্ধি থেকে দূরে থাকে। সুতরাং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শরীরে আতর, সুগন্ধি, কিংবা লোসন মেখে শুতে পারেন। নিশ্চিত করে বলা যায় এতে মশা সাধারণ থেকে অনেক কম দেখা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here